দেশি মাছের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ
– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২১
Find us in facebook
দেশে এক যুগে দেশি ছোট মাছের উৎপাদন বেড়েছে অন্তত চার গুণ। বিলুপ্তপ্রায় ৬৪টি প্রজাতির মধ্যে ২৯টির মাছের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। সর্বশেষ সফলতায় যুক্ত হয়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির পিয়ালি মাছ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এ মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি পর্যায়ক্রমে চাষাবাদে নিয়ে আসা হবে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) বাংলাদেশের হিসাবমতে, দেশের ২৬০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ৬৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায়। এর মধ্যে ৯ প্রজাতির মাছ অতিবিপন্ন, ৩০ প্রজাতির বিপন্ন এবং ২৫ প্রজাতির শঙ্কাগ্রস্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণায় পিয়ালিসহ ২৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, বাটা, ফলি, মহাশোল, খলিশা, বৈরালী, ঢেলা, বাতাসি ইত্যাদি অন্যতম। বাজারে এসব মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই। গত ১২ বছরে চাষের মাধ্যমে দেশি ছোট মাছের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার গুণ। দেশি প্রজাতির ছোট মাছ সুরক্ষায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশে প্রথমবারের মতো একটি ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘দেশি মাছ রক্ষায় ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম সাম্প্রতিককালে জোরদার করা হয়েছে। সব দেশি মাছকে সুরক্ষা করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ দেশব্যাপী এ মাছ ছড়িয়ে দেওয়াই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। চলতি বছর ইনস্টিটিউট ১০টি দেশি প্রজাতির মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে ঢেলা, বাতাসি, লইট্যা, ট্যাংরা, পুইয়া ও পিয়ালি মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। আরও কিছু চমক শিগগিরই আসছে।’ জানা যায়, পিয়ালি মাছ এলাকাভেদে জয়া, পিয়ালি বা পিয়াসী নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Aspidoparia jaya। এ মাছটি সিপ্রিনিডি (Cyprinidae) পরিবারভুক্ত মিঠাপানির একটি মাছ। বাংলাদেশ (পদ্মা ও যমুনা এবং এগুলোর শাখা নদীতে), ভারত (আসাম, উত্তরাঞ্চল, উত্তর প্রদেশ), নেপাল, ইরান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও আফগানিস্তানে এ মাছের বিস্তৃতি রয়েছে। পিয়ালি মাছ দৈর্ঘ্যে ৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। এদের দেহ লম্বা ও পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। পরিপক্ব পুরুষ মাছের পেট হলুদাভ থাকে এবং এরা স্ত্রী মাছের চেয়ে আকারে অপেক্ষাকৃত বড় হয়। স্ত্রী মাছের পেট ধবধবে সাদা ও হালকা স্ফীতাকার। প্রতি বছর এ মাছের শরীরের আইশ ঝরে যায় এবং নতুন আইশ তৈরি হয়। সুস্বাদু এ মাছটি বর্তমানে বাংলাদেশের সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, যমুনা ও পদ্মা বিধৌত এলাকায় বসবাসরত মানুষের কাছে পিয়ালি মাছ অতি পরিচিত। এ মাছের স্বাদ মানুষের মুখে মুখে। একসময় যমুনা ও পদ্মায় পিয়ালি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। কিন্তু পরিবেশগত বিপর্যয় ও অতি আহরণের ফলে এ মাছও বর্তমানে সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিয়ালি মাছকে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বগুড়া জেলার সান্তাহার প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণা পরিচালনা করে দেশে প্রথমবারের মতো এর প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি এখন চাষের উপযোগী করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
জানা যায়, গবেষক দলে ছিলেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডেভিড রিন্টু দাস, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ও মালিহা খানম।
জানা যায়, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন সান্তাহার প্লাবনভূমি উপকেন্দ্র থেকে যমুনা, বাঙালি, আত্রাই নদীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পিয়ালি মাছের পোনা সংগ্রহ করে উপকেন্দ্রের পুকুরে তা নিবিড়ভাবে প্রতিপালন করা হয়। এ সময় পিয়ালি মাছের খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। প্রাকৃতিক জলাশয়ে এরা মূলত প্লাঙ্কটনভোজী। গবেষণাকালে একটি ৬ গ্রাম ওজনের পিয়ালি মাছ বিশ্লেষণ করে এর পেটে ৮০ দশমিক ৭১ শতাংশ ফাইটোপ্লাঙ্কটন এবং ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ জুপ্লাঙ্কটন পাওয়া যায়। এ ছাড়া বছরব্যাপী জিএসআই ও হিস্টোলজি পরীক্ষণের মাধ্যমে পিয়ালি মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়। এ প্রজাতির মাছ সাধারণত বর্ষাকালে অগভীর জলাশয়ে প্রজননে অংশগ্রহণ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মে থেকে আগস্ট এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে নদীতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী মাছ পাওয়া যায়। জুন থেকে সেপ্টেম্বরে জলাশয়ে পিয়ালির পোনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতে প্রমাণিত হয়, পিয়ালি মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হচ্ছে মে-আগস্ট ও ডিসেম্বর-জানুয়ারি। পিয়ালির ডিম-ধারণক্ষমতা আকারভেদে ১৫০০ থেকে ৩৫০০টি। একটি পরিপক্ব স্ত্রী পিয়ালি মাছ ৩.৫ থেকে ৬ গ্রাম ওজনের হলেই প্রজনন-উপযোগী হয়। প্রজনন-উপযোগী পুরুষ পিয়ালি মাছ আকারে অপেক্ষাকৃত বড় (৪ থেকে ৬ গ্রাম) হয়। ইনস্টিটিউটের চলমান এ গবেষণায় পাঁচ জোড়া পিয়ালি মাছকে চলতি জুনে ১:১.৫ অনুপাতে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। হরমোন প্রয়োগের ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর ডিম ছাড়ে এবং ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর নিষিক্ত ডিম থেকে রেণু পোনা উৎপাদিত হয়। ডিম নিষিক্ততার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬ ভাগ। উৎপাদিত রেণু বর্তমানে ইনস্টিটিউটের প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে প্রতিপালন করা হচ্ছে।
গবেষক দলের প্রধান ড. ডেভিড রিন্টু দাস বলেন, ‘পিয়ালি মাছ দ্রুতবর্ধনশীল এবং খেতে খুবই সুস্বাদু। এ মাছ আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম ও লোহাসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম পিয়ালি মাছে মেথিয়োনিন ৭৫০ মিলিগ্রাম, সিস্টিন ৪২০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪৩০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬৭০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৫০ মিলিগ্রাম, জিঙ্ক ১২.৮ মিলিগ্রাম, আয়রন ২৫ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ৮.২১ মিলিগ্রাম এবং ১.৪০ শতাংশ কপার রয়েছে, যা অন্য অনেক দেশি ছোট মাছের তুলনায় অনেক বেশি। ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে এ মাছ অত্যন্ত কার্যকর।
- পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ থাকায় এবার চমড়া নষ্ট হয়নি: শিল্পমন্ত্রী
- কাহারোলে বেগুনের বাম্পার ফলন
- `করোনা মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে`
- এবার গ্রামে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে
- লকডাউন বাস্তবায়নে রংপুরে তৎপর সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি
- মামলা ও জরিমানা অব্যাহত রেখেছেন কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত
- খানসামায় দুটি এসএসসি ব্যাচের মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট
- অবশেষে সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘরে তুললেন পাটগ্রামের সেই মেম্বার
- ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত
- দিনাজপুরে যুবলীগের উদ্যোগে বিনামূল্যে ওষুধ, সুরক্ষা সামগ্রী সেবা
- চিলমারীতে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
- ঈদের ছুটি শেষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু
- গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮২
- গাইবান্ধায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু
- করোনা: গত ২৪ ঘন্টায় রংপুর বিভাগে আরও ১৬ জনের মৃত্যু
- প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫০টি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ
- ভারত ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে: ড. হাছান মাহমুদ
- পদ বাঁচাতে খালেদার শরণাপন্ন ফখরুল
- ‘দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে’
- গাইবান্ধায় ২টি পেট্রোল বোমা ও ৩টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার
- করোনা আপডেট: গত ২৪ ঘন্টায় ২২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১২৯১
- করোনা সংকট মোকাবেলায় রংপুরে ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি শুরু
- বিএনপিতে সক্রিয় হচ্ছে তৃতীয় পক্ষ
- টিকা পেতে এক কোটি ১৮ লাখের বেশি নিবন্ধন
- গোবিন্দগঞ্জে পুকুরে মিলল মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ
- ব্রুনাইয়ের সুলতানকে ‘হাড়িভাঙ্গা’ আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
- পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি রফতানি করে বছরে আয় ৩২০ কোটি টাকা
- দেশের মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তায় হচ্ছে পুষ্টি বাগান
- সরকারি চাকুরেদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে, বিধিমালা কার্যকরে উদ্যোগ
- চট্টগ্রামে ৪ থানায় পুলিশের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’
- মহামারিতেও থেমে নেই স্বপ্নের ২য় তিস্তা সেতুর কাজ
- রংপুরে অটোচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
- ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ৩২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা
- আশ্রয়ণ প্রকল্পে গাফিলতির ঘটনায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
- করোনা দুর্যোগে ভিজিএফ’র চাল পাচ্ছেন রংপুরে সোয়া ৪ লাখ মানুষ
- ১২ লাখ ওন বেতনে বাংলাদেশি ইমাম নেবে কোরিয়া
- রংপুরে সীমিত পরিসরে লকডাউন শুরু
- রমেকে করোনা রোগীর চাপে আরও ৫০ শয্যা বৃদ্ধি
- করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে- প্রধানমন্ত্রী
- কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসনের অভিযান
- রংপুরে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ মানাতে মাঠে নেমেছে পুলিশ
- ঈদে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মিষ্টান্ন পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
- জাপান থেকে মেট্রোরেলের আরো দুই সেট ট্রেন দেশে এসে পৌঁছেছে
- কুড়িগ্রামে নুরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
- ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২২০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ
- একদিনেই গরুটার প্রেমে পড়ে যাই: পরীমনি
- ‘সেনা কমান্ডে নিরপেক্ষতার সঙ্গে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করুন’
- রংপুরে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছে ভলান্টিয়ার চিকিৎসক
- পঞ্চগড়ে পুকুরের পানিতে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু
- প্রেমের টানে ভারত থেকে রংপুরে তরুণী



