• বৃহস্পতিবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ||

  • চৈত্র ২২ ১৪২৯

  • || ১৪ রমজান ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
কারণ অনুসন্ধান ও সমাধানের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪৭টি অডিট রিপোর্ট হস্তান্তর সিএজি’র বাংলাদেশ এখন একটি শান্তির দেশ: নানক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মন্ত্রী নবজাতকসহ মায়ের মৃত্যু: অভিযুক্ত নার্স সাময়িক বরখাস্ত

৩০ বছর ধরে তারাবির নামাজ পড়াচ্ছেন আনোয়ারুল ইসলাম

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

নব্বই দশকে হেফজ পড়াশুনা শেষ করার পর রংপুরে কয়েকটি মসজিদে তারাবির নামাজের ইমামতি করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম সাজু। পরে ১৯৯২ সালে চাকরির সুবাদে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সোলেমানিয়াতে চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি মসজিদে দীর্ঘ সাত বছর তারাবির নামাজের ইমামতি করেছেন তিনি।

এরপর ২০০১ সালের শুরুর দিকে দেশে ফিরে আসেন আনোয়ারুল ইসলাম। তবে ছাড়েননি তারাবির নামাজ পড়ানো। দেশে ফিরেও প্রতি মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতি করেছেন। এভাবে তারাবির নামাজে ইমামতি করতে করতে তার জীবনের ৩০টি বছর কেটে গেছে। সৌদির প্রবাস জীবনে মসজিদে মসজিদে গিয়ে রমজান মাসে প্রশান্তি পেয়েছেন এই হাফেজ। সেখানকার হাফেজদের মন জুড়ানো কোরআন তেলোয়াত আর রমজানের ইবাদত ভুলতে পারেননি এখনো।
 
রমজানকে ঘিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই কথাগুলোই বলছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম সাজু। সৌদি থেকে দেশে ফেরার পর রংপুরের বেশ কয়েকটি মসজিদে রমজানে তারাবির ইমামতি করেছেন তিনি।

বর্তমানে হাফেজ আনোয়ারুল ইসলাম সাজু রংপুর নগরীর নূরপূর এলাকায় উদ্দীন হাফিজিয়া মাদরাসাতে শিক্ষকতার পাশাপাশি আশরাফিয়া জামে মসজিদে ইমামতি করছেন। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি জুম্মারহাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়ার বড় ছেলে। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি রংপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। 
 
ত্রিশ বছর ধরে তারাবিতে ইমামতি করানো হাফেজ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ তারাবির সময় কেটেছে সৌদি আরবে। সেখানকার মানুষরা রমজান মাসে রাতদিন ইবাদত বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে সালাতুল তারাবি থেকে তাহাজ্জুদের সময় পর্যন্ত চারদিক থেকে ভেসে আসা সুমধুর কোরআন তেলোয়াত বিমোহিত করার মতো।

তিনি আরও বলেন, মাহে রমজান এলেই মন চায় সৌদি আরব যেতে। কোরআনের উচ্চারণ, ইয়াদ, সুর যেন বারবার এই আকুতি জানায়। পবিত্র রমজান জুড়ে সৌদি আরবে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকে সেখানকার মানুষরা। ইবাদতের বালাখানায় ইফতার, তারাবির, তাহাজ্জুদ, সেহরি আর কোরআন তেলোয়াতে কোনো ঘাটতি নেই।

এ মাসে সম্প্রীতির বন্ধন, একে অপরের খোঁজখবর আর অসহায়ের পাশে দাঁড়াবার জন্য উদগ্রিব থাকে সৌদির মানুষরা। এমন প্রশান্তির পরিবেশে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর সময় কেটেছে আনোয়ারুল ইসলাম সাজুর। তাই রমজান মাস এলেই সৌদি আরবে ফিরে যেতে চান তিনি। রমজান জুড়ে সৌদি আরবে ইফতার সামগ্রী ক্রয় নিয়ে কাউকে চিন্তা করতে হয় না। সেখানকার ধর্ণাঢ্যরা ইফতারের পরসা নিয়ে বসে থাকেন রোজাদারদের অপেক্ষায়।
 
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সৌদিতে ইফতারের সময় মসজিদে মসজিদে হাজার হাজার রোজদার এক সঙ্গে ইফতার করেন। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও রোজাদারকে ডেকে নিয়ে ইফতার খাওয়ান। অধিকাংশ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তসহ অসহায়, গরিবদের সেখানে ইফতার কিনে খেতে হয় না। কোনো না কোন মাধ্যমে তারা ইফতার পেয়ে যান। শুধু সেহরির সময়টুকু বাদ দিয়ে পুরো সৌদি আরবের মসজিদে মসজিদে ইফতার, তারাবি ও তাহাজ্জুদের সময় মুসল্লিদের ঢল নামে।

এই কোরআনের হাফেজ বলেন, মুসলমানদের জন্য সারাবছরই নামাজ ফরজ। আর রমজানের সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হচ্ছে কোরআন তেলোয়াত। রোজার সঙ্গে কোরআন তেলোয়াত মনকে শীতল রাখে। সৌদিতে তারাবির সময় কোরআনের আয়াত শুনে মুসল্লিদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু আমরা কোরআনের তেলোয়াত শুনি, অর্থ বুঝি না। এ কারণে আমাদের মধ্যে কোরআনে শোনার মনযোগ কম। সৌদির মসজিদগুলোতে শুধু বিশ রাকাত সালাতুল তারাবিতেই নয়, তাহাজ্জুদের সময়ও মুসল্লিরা দীর্ঘ সময় নামাজ আদায় করেন। অথচ বাংলাদেশে আমরা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। আট রাকাত নামাজ পড়ে বেশিরভাগ মুসল্লি চলে যায়।

এই রমজানে অসহায়, গরিব, মিসকিনদের বেশি বেশি সাহায্য সহযোগিতা ও দান করার তাগিদ দিয়ে এই হাফেজ বলেন, আমি পনের দিন তারাবির ইমামতি করতাম। আর পনের দিন মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তাম। কখনোই মসজিদে মুসল্লি কম দেখিনি। কিন্তু আমাদের দেশেতো রমজানের প্রথম দশদিন পর থেকে মুসল্লি কমতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, আমরা যদি তা সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে পারি, তবেই স্বার্থক হবে নেয়ামত ও ফজিলতের এই মাসের ইবাদত।

আশরাফিয়া জামে মসজিদের মুসল্লি আব্দুর রহমান বলেন, আমি সৌদি আরবে গিয়েছিলাম। সেখান হজ করার সময়ে বেশ কিছু মসজিদে নামাজ আদায় করেছি। সৌদির হাফেজদের মতো আমাদের মসজিদেও তারাবির নামাজ পড়ান আনোয়ার হুজুর। তার কোরআন তেলোয়াত শুনলে মন জুড়িয়ে যায়।
 
মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান বলেন, হাফেজ আনোয়ার দীর্ঘ বছর ধরে আমাদের মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াচ্ছেন। এর আগে শহরের বিভিন্ন মসজিদেও ইমামতি করেছেন। আমরা তার কোরআন তেলোয়াতে মুগ্ধ।  

(সূত্র- ঢাকা পোস্ট)

Place your advertisement here
Place your advertisement here