• সোমবার ১০ এপ্রিল ২০২৩ ||

  • চৈত্র ২৭ ১৪২৯

  • || ১৮ রমজান ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ব্যাপক উন্নয়নের পেছনে স্থিতিশীল গণতন্ত্র: প্রধানমন্ত্রী লেবু বাগান করে লাখপতি ঠাকুরগাঁওয়ের সিদ্দিক লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রণোদনার বীজ ও সার উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হাওরের সাত জেলায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা

বঙ্গবন্ধুই আমার জীবনে শেষ কথা: রাষ্ট্রপতি

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে স্মারক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমার জীবনে বঙ্গবন্ধুই শেষ কথা। যার পিঠে একবার বঙ্গবন্ধুর হাত পড়েছে বা স্নেহের ছোঁয়া লেগেছে তার পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে ভুলে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেওয়া স্মারক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। আমি তখন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের ছাত্র। পরিচয় থেকেই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসা। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের অনুসারী হয়ে যাই। বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনায় কিশোরগঞ্জে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাই। মাঝে মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হতো। অনেক সময় তিনি নিজেও ডেকে পাঠাতেন। সে সময়ে বঙ্গবন্ধুই ছিলেন আমার একমাত্র ধ্যান-ধারণা। তাঁর নীতি-আদর্শ ও নির্দেশনাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় বিষয়। শুধু আমি কেন, ওই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অনেক যুবকের কাছে বঙ্গবন্ধুই ছিলেন একমাত্র আদর্শ। 

পাকিস্তান আমলের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, পাকিস্তানি জান্তা সরকার ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে এলে বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকে পাঠান এবং নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানান। জাতীয় পরিষদে না প্রাদেশিক পরিষদে মনোনয়ন দেবেন তা নিয়ে অনেক মজার গল্প আছে। যাইহোক সবশেষে বঙ্গবন্ধু আমাকে জাতীয় পরিষদে মনোনয়ন দিলেন। মাত্র ২৫ বছরের একজন যুবককে জাতীয় পরিষদের মতো এত বড়ো মাপের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেদিন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। আমি নিজেও কম অবাক হইনি। কারণ তখনও আমি ছাত্র। আর আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকতাম। জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের কথা এর আগে আমার ভাবনায়ও আসেনি। বঙ্গবন্ধুর অপার স্নেহ আর তাঁর দূরদর্শিতার কারণেই আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছি। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু আমাকে মনোনয়ন না দিলে নিভৃত হাওরের আবদুল হামিদ হয়তোবা নিভৃতেই থেকে যেত। তাই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেই আমি বেশি গর্ববোধ করি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর জাতীয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম। বঙ্গবন্ধু নিজেও আমার নির্বাচনের প্রচারে এসে কয়েকটি জনসভা করলেন এবং বললেন ‘হামিদকে ভোট দিলেই আমাকে ভোট দেওয়া হবে।’ আল্লাহর অশেষ রহমতে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলাম এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্য হই। ১৯৭৩-২০০৮ পর্যন্ত ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম সংসদে দায়িত্ব পালন করি। সপ্তম সংসদে ডেপুটি স্পিকার পরে স্পিকার, অষ্টম সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবম জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার দুর্লভ সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পদেও আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাজনীতির স্বার্থে কিশোরগঞ্জে ফিরে গিয়েছিলেন জানান আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ছাত্র হিসেবে খুব একটা ভালো ছিলাম না, এটা অনেকেরই জানা। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইচ্ছা থাকলেও প্রথমবারে তা হয়নি। পরবর্তী সময়ে খেলোয়াড় কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি চূড়ান্ত করি। আগ্রহ নিয়ে সাফল্যের খবরটি বঙ্গবন্ধুকে জানাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করার আগ্রহ প্রকাশ করি। আশা ছিল নেতার কাছ থেকে কিছুটা হলেও বাহবা পাব। কিন্তু ফল হলো একেবারে উল্টো। সব শুনে বঙ্গবন্ধু ভারি গলায় বললেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোর ভর্তি বাতিল। কিশোরগঞ্জে থেকে তোকে রাজনীতি করতে হবে।’ কাছাকাছি থাকা তোফায়েল ভাইকে ডেকে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘হামিদকে সেন্ট্রাল ল’ কলেজে ভর্তি করে বইখাতা দিয়ে কিশোরগঞ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা কর।’ সেই থেকে কিশোরগঞ্জকে কেন্দ্র করেই আমার আইন পেশা ও রাজনীতির বিচরণ। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও পরিচয় ও আলাপচারিতার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। কিশোরগঞ্জই আমার রাজনীতির চারণভূমি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৯৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করলে তিনি আমাকে ডেপুটি স্পিকার পদে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেন। শুনেছি এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দু-একজন ছাড়া তৎকালীন অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই না-কি মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘হামিদ সাব কখনো কেন্দ্রীয় রাজনীতি করেন নাই।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সবকিছু উপেক্ষা করে আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী সেদিন আমাকে ডেপুটি স্পিকার পদে মনোনয়ন না দিলে হয়তোবা কিশোরগঞ্জকে ঘিরেই আমার রাজনীতি আবর্তিত হতো। বঙ্গবন্ধুর হাতে হয়েছিল আমার রাজনীতির হাতেখড়ি ও প্রথম উত্থান। আর ৯৬’তে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দ্বিতীয় উত্থান ঘটে। 

সংসদ ভবনকে ঘিরে নানান স্মৃতি তুলে ধরে আবদুল হাসিদ বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজকের এই ভাষণটি মহান জাতীয় সংসদে আমার শেষ ভাষণ। আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল সময় কেটেছে শেরেবাংলা নগরের উন্মুক্ত সবুজ পরিসর ও মনোরম জলাধারে ঘেরা মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের অনন্য সাধারণ সৃষ্টি, পৃথিবীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা এই জাতীয় সংসদ ভবনে। যা চির অম্লান থাকবে।

Place your advertisement here
Place your advertisement here